দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘লিওয়ের কসাই’ নামে কুখ্যাত নাৎসি যুদ্ধাপরাধী ক্লাউস বার্বির ইতিহাস এখনো বিশ্ববাসীর কাছে এক ভয়ংকর স্মৃতি। ১৯৮৭ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফরাসি আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ড পেলেও, এর বহু আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে আশ্রয় ও নিয়োগ দিয়েছিল। আজ সেই ইতিহাসে ছায়া ফেলেছে আরেক ভয়ঙ্কর চরিত্র—‘গাজার কসাই’ নামে খ্যাত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বার্বি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের লিও শহরে গেস্টাপো প্রধান হিসেবে সরাসরি নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ৭,৫০০ মানুষকে মৃত্যু শিবিরে পাঠিয়ে এবং ৪,০০০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে তিনি ইতিহাসের এক ভয়াল অধ্যায় রচনা করেন। যুদ্ধের পরপরই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তাকে নিজেদের গোয়েন্দা বানিয়ে আশ্রয় দেয় এবং দক্ষিণ আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
আজকের দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আরেক ঘাতকের উত্থান ঘটেছে—নেতানিয়াহু। অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় তার নেতৃত্বে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৬,৫০০ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১,৩৩,৬৪২ জন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েও ইসরায়েল ত্রাণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যা করেছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে তৈরি করেছে তথাকথিত ত্রাণকেন্দ্র, যেগুলো বাস্তবে রূপ নিয়েছে মৃত্যুকূপে। এ পর্যন্ত ত্রাণ কেন্দ্রে গুলিতে শহীদ হয়েছেন ৫০০’র বেশি, আহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি গাজাবাসী।
জাতিসংঘের সংস্থা UNRWA-এর কাজ বন্ধ করে, তারা নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে মানবিক সহায়তারও—তাতে করে গাজাবাসীদের জীবন আরও বিপন্ন হচ্ছে। আজ প্রশ্ন জাগে: ইতিহাস কি নিজেকে আবারও পুনরাবৃত্তি করবে? বিশ্ব কি এবার গাজার কসাইয়ের বিচার দেখবে, নাকি মার্কিন সহায়তায় সেই বিচারও কেবল অধরাই থেকে যাবে?