জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ককে ‘অবাঞ্ছিত’ (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট। দেশটিতে নির্বিচার গ্রেফতার, গুম, ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সরব হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিকোলাস মাদুরো সরকার এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানায়।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদে টুর্ককে অবাঞ্ছিত ঘোষণার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মাদুরো সরকার টুর্কের ভূমিকা ও বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যানের কৌশলগত বার্তা দিল।

ভেনেজুয়েলা আগেই অভিযোগ করেছিল যে, টুর্ক যুক্তরাষ্ট্র থেকে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানো ভেনেজুয়েলানদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাছাড়া মার্কিন অভিবাসন নীতির কারণে যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, সেসব শিশুকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে মাদুরো প্রশাসন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অবাঞ্ছিত ঘোষণার তাৎক্ষণিক কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এটি রাজনৈতিকভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার দূরত্ব বাড়াবে।

এর আগেও মাদুরো সরকার জাতিসংঘ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেছিল। তাই এবারও টুর্কের দপ্তরের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক সা’ব সরকারবিরোধী রাজনৈতিকদের আটক ও নিপীড়নের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টুর্কের ‘অসম্পূর্ণ অবস্থান’ নিয়েও সমালোচনা করেন এবং হাইকমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।

এই ঘটনার ফলে ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

Walton Ads