ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির অনুমোদনের পর আগামী ১৬ জুলাই ভারতীয় নাগরিক নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে একজন ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার দায়ে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কেরালার ৩৭ বছর বয়সী এই নার্সের মামলাটি ইতিমধ্যে ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পটভূমি:
নিমিশা প্রিয়া ২০১৫ সালে ইয়েমেনের তালাল আবদো মেহদির সাথে যৌথভাবে একটি ক্লিনিক চালু করেন। তবে শীঘ্রই তাদের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়। নিমিশার দাবি, তালাল তার পাসপোর্ট জব্দ করেন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এমনকি তালাল নিজেকে নিমিশার স্বামী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। নিমিশা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও তালাল অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত:
২০১৭ সালের ২৫ জুলাই নিমিশা প্রিয়া তালালকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এরপর এক বান্ধবীর সহায়তায় দেহটি খণ্ডবিখণ্ড করে ক্লিনিকের পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর দেহের পচন ধরা পড়লে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং নিমিশাকে গ্রেপ্তার করে।

আইনি প্রক্রিয়া:
২০১৮ সালে ইয়েমেনের একটি আদালত নিমিশাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও তা নাকচ হয়ে যায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে তার ভাগ্য নির্ধারিত হয়।

ভারতের প্রতিক্রিয়া:
এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে নিমিশার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি তার জীবন রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

এই মামলাটি বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রাপ্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিমিশার দাবি অনুযায়ী যদি সত্যিই তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে এটি একটি জটিল মানবাধিকার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড রোধে ভারত সরকারের শেষ মুহূর্তের কোনো উদ্যোগ আসবে কি না, তা এখন সবারই লক্ষ্য।

Walton Ads