আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল আগামী পাঁচ বছরে পানিশূন্য শহরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা এই সংকটের পেছনে মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আলজাজিরার অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরজুড়ে ৫০০-রও বেশি পানি ও কোমল পানীয় কোম্পানি দৈনিক মিলিয়ন লিটার জল উত্তোলন করছে।
জনপ্রিয় পানীয় ব্র্যান্ড আলোকোজে প্রতিদিন প্রায় ২.৫ মিলিয়ন লিটার জল ব্যবহার করে। পাশাপাশি, শহরের আশপাশের গ্রিনহাউস চাষের জন্য বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন লিটার জল শোষিত হচ্ছে। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ও হিমবাহের গলন আগেভাগেই শুরু হওয়ায় কাবুলের জল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত এক দশকে কাবুলের ভূগর্ভস্থ জলস্তর ২৫ থেকে ৩০ মিটার কমে গেছে। ইউনিসেফ জানায়, শহরের অর্ধেকের বেশি বোরওয়েল ইতিমধ্যে শুকিয়ে গেছে এবং ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ জল অনিরাপদ। বর্তমানে প্রায় ১২০,০০০ অনিয়ন্ত্রিত কূপ শহরের জলস্তরকে আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে।
ধনী বাসিন্দারা গভীর কূপ খনন করলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশুরা, প্রতিদিন পানির সন্ধানে শহর চষে বেড়াচ্ছে।
জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক ও ভারতের সহায়তায় চালু হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ জল প্রকল্প স্থগিত হয়ে রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম জল রিচার্জ, চেক ড্যাম, জলাধার নির্মাণ এবং পানির অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তা না হলে, ২০৩০ সালের মধ্যেই কাবুল শহর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।