যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক আলবানিজকে আমেরিকান নাগরিকদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর সাথে সহযোগিতার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে দাবি করেন, আলবানিজ "ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন এবং পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি অবমাননাকর আচরণ" করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আলবানিজের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে এবং সেখানে তার যেকোন সম্পদ জব্দ করা হতে পারে।

ইতালীয় এই আইনবিদ তার টুইটার অ্যাকাউন্টে আইসিসিকে সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, "আমি সেই ঐতিহ্যকে সম্মান করি যেখানে আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জীবন দিয়েছেন।" আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে "মাফিয়াসুলভ ভয়ভীতির কৌশল" আখ্যা দেন।

এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে রয়েছে গত বছর আইসিসি কর্তৃক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে আইসিসির চার বিচারকের বিরুদ্ধে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই সিদ্ধান্তকে "অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক" বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সকল সরকারকে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, আলবানিজ সম্প্রতি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ইসরাইলের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা মার্কিন প্রশাসনের রোষের কারণ হয়েছে। তার মতে, এসব কোম্পানি "অবৈধ দখল ও গণহত্যার অর্থনীতিতে লাভবান হচ্ছে।"

এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ওয়াশিংটনে সফররত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন একপেশে নীতিরই প্রতিফলন।

Walton Ads