গাজার দেইর আল বালাহ শহরে এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বৃহস্পতিবার নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু, যাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র দুই বছর এবং সবচেয়ে বড়টি ১৪ বছর, জানিয়েছে গাজার আকসা শহীদ হাসপাতাল। তিনজন নারী ও চারজন পুরুষও নিহত হয়েছেন।
ঘটনার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনে চিকিৎসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এসব মানুষ। প্রজেক্ট হোপ নামে একটি মার্কিন সাহায্য সংস্থার ক্লিনিকের সামনে এ হামলা চালানো হয়। সংস্থার প্রধান রাবিহ তোরবে জানান, “এই ক্লিনিক একটি সংঘাতমুক্ত এলাকা হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনীকে জানানো হয়েছিল।”
সিএনএন ফুটেজে দেখা যায়, আহত শিশুরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে; অনেককে গাড়িতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রজেক্ট হোপের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ক্লিনিকে গর্ভবতী নারী, অপুষ্ট শিশু ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা মানুষরা চিকিৎসা নিতে আসেন। “তবুও, আজ সকালের মতো নিষ্ঠুরতা আমাদের হতবাক করেছে,” বলেন তোরবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল এক হামাস যোদ্ধা। তারা বলেছে, “আমরা বেসামরিক ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, এবং দুঃখ প্রকাশ করছি।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি প্রথমবার নয়—স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বারবার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হামলার লক্ষ্য হচ্ছে। এমএসএফ-এর ডা. মোহাম্মদ আবু মুগাইসিব বলেন, “গাজাবাসীরা ক্লান্ত, ভেঙে পড়েছে—এখানে 'আশা' শব্দটি একেবারে দুর্বল হয়ে গেছে।”
দোহার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও ইসরায়েল গাজায় স্থল ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত এক মাসেই প্রাণ গেছে প্রায় ৩ হাজার ফিলিস্তিনির।
অন্যদিকে, হামাসও গেরিলা স্টাইলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।