সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সওয়েইদা প্রদেশে চার দিন ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ জনে। সংঘর্ষে অংশ নিচ্ছে সুন্নি বেদুঈন যোদ্ধা ও সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। সংঘর্ষ চলাকালে শহরজুড়ে গোলাগুলি ও মর্টার হামলায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯২ জন দ্রুজ, ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক, ১৩৮ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য ও ১৮ জন বেদুঈন যোদ্ধা। যদিও সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সংঘর্ষ থামানোর ঘোষণা দেয়, বাস্তবে থেমে থেমে লড়াই চলছেই।

দ্রুজ গোষ্ঠী এবং পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস অভিযোগ করেছে, সরকারি বাহিনী সংঘর্ষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বরং বেদুঈনদের পক্ষ নিচ্ছে। শহরে এখনও ধোঁয়ার কুণ্ডলী, মরদেহ ও গোলাবর্ষণের শব্দ পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সওয়েইদা টুয়েন্টিফোর’ জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে শহরজুড়ে ব্যাপক কামান ও মর্টার হামলা হয়েছে। সরকারি বাহিনী বলছে, বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে তারা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতিপূর্বে এ বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এই অঞ্চলেই সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। তবে এবারের সহিংসতা তা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

এর মধ্যে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলেছে ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি। সিরিয়ার শাসকদের উদ্দেশে ইসরায়েল জানিয়ে দিয়েছে— যদি তারা ‘বার্তা না বুঝে’, তাহলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা এর আগেও সওয়েইদায় ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের এই অবস্থান অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

Walton Ads