ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধাবস্থা পুরোপুরি থামার আগেই নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে ইসরায়েল। এবার তাদের লক্ষ্য সিরিয়া। দক্ষিণ সিরিয়ায় একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দামেস্কের সামরিক সদর দপ্তরও।
আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স) জানায়, বুধবার তারা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সিরীয় শাসকগোষ্ঠীর সামরিক সদর দপ্তরের প্রবেশপথে টার্গেটেড হামলা চালিয়েছে। এর আগে সোমবারও সুন্নি ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি, দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে রক্ষার কথা উল্লেখ করে ইসরায়েল নিজেদের অভিযানের নৈতিকতা তুলে ধরেছে।
এতে ফের প্রশ্ন উঠছে—ইসরায়েল কি আসলে শান্তি চায়? যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, শান্তির জন্যই এসব পদক্ষেপ, এমনকি তিনি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার অনুরোধও জানিয়েছেন। অথচ পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।
১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই, সিরিয়ায় এই টানা আক্রমণ পশ্চিম এশিয়ায় আবার উত্তেজনার ঢেউ তুলেছে। এর মাঝেই সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলার তথ্য। ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ করেন, ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানের ইরানি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছিল।
এই সবকিছু মিলে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অঞ্চলটি। তেলের দাম বাড়ছে, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনাও অস্বীকার করা যাবে না। ইসরায়েল বারবার আক্রমণ করে যুদ্ধকেই যেন দীর্ঘায়িত করছে।