যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান সাম্প্রতিক ইসরায়েলবিরোধী সংঘাতে সফলভাবে ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর খুঁজে বের করেছে এবং সেটিকে ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ দিনের এই সংঘাতে ইরান পরীক্ষা-নিরীক্ষাভিত্তিক কৌশল প্রয়োগ করে একাধিক দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আক্রমণের ধরন ও সময়ের মধ্যে বৈচিত্র্য এনেছে। বিশেষভাবে ফাতেহ-১ নামের দূরপাল্লার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়। এর ফলে ইসরায়েলের প্রথম ধাপের প্রতিরক্ষায় ব্যর্থতার হার ৮% থেকে বেড়ে ১৬%-এ পৌঁছে যায়।

২২ জুন, যুদ্ধের শেষ দিকে সবচেয়ে বড় সফলতা পায় ইরান। সেদিন ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি ইসরায়েলে সরাসরি আঘাত হানে। যদিও ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ৯০-৯৫% ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পেরেছে, পরবর্তী সময়ে এ হার কমে ৮৬%-এ নেমে আসে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, প্রকৃত ব্যর্থতার হার আরও বেশি।

র‌্যান্ড করপোরেশনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেন বলেন, “কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নিখুঁত নয়। প্রতিটিতে কিছু না কিছু দুর্বলতা থাকে।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে। ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রকল্পে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান ও ইসরায়েল উভয়েই এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ কৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে। এই সংঘাত ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা বলেও মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

Walton Ads