যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে নিযুক্ত দেশটির কূটনীতিকদের নতুন নির্দেশ দিয়েছে—ভিনদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা ফলাফল নিয়ে যেন তারা কোনো ধরনের মতামত না দেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় এই নির্দেশনা পাঠানো হয় সব মার্কিন দূতাবাসে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর স্বাক্ষরিত ওই বার্তায় বলা হয়েছে, এখন থেকে নির্বাচনী স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা বা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না, যদি না সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট ও জরুরি পররাষ্ট্রনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত হয়।

“এখন থেকে কেবল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা দপ্তরের মুখপাত্র নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন। কূটনীতিকদের এসব বিষয়ে কোনো ব্যক্তিগত বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নিষিদ্ধ,”—বার্তায় বলা হয়।

এ নির্দেশনায় ১৩ মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি আরবে দেওয়া এক ভাষণের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমা দেশগুলো আর অন্যদের বলবে না কীভাবে চলতে হবে। এখন সময় অংশীদারত্বের, হস্তক্ষেপের নয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, “এই নীতিতে মার্কিন প্রশাসনের ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’-এর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন রয়েছে।”

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিস্তারে ভূমিকা রেখে আসলেও, সমালোচকরা বারবার দেশটির দ্বৈতনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—বিশেষত মিত্রদের ব্যাপারে নরম মনোভাব নিয়েই।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিল। এখন এ সিদ্ধান্ত সেই নীতিকে আরও শক্তিশালী করল—বিশ্বজুড়ে আমেরিকার কূটনৈতিক ভূমিকার ধরণ বদলে দিচ্ছে এই বার্তা।

Walton Ads