থাইল্যান্ডে ধর্মীয় আস্থার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া এক ভয়াবহ কেলেঙ্কারি এখন দেশের সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ‘মিস গলফ’ নামে পরিচিত ৩০ বছর বয়সী থাই তরুণী উইলাওয়ান এমসাওয়াতকে গ্রেফতার করেছে থাই পুলিশ। অভিযোগ, তিনি প্রেমের অভিনয় করে অন্তত ৯ জন প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো গোপনে ভিডিও ধারণ করে ভিক্ষুদের ভয় দেখিয়ে আদায় করেন প্রায় ১০৩ কোটি টাকা।

পুলিশ জানায়, উইলাওয়ানের মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ হাজারেরও বেশি অশ্লীল ছবি ও ভিডিও, যার মধ্যে অনেকগুলোতেই দেখা গেছে নামকরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। থাই সমাজে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র হলেও এই ঘটনার পর জনমনে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। বিশেষ করে যখন জানা গেছে যে ব্ল্যাকমেইল করা টাকার বড় অংশই এসেছে মঠের দানবাক্স এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জনগণের দেওয়া অর্থ থেকে।

এই কেলেঙ্কারির পরপরই ৯ জন ভিক্ষুকে গেরুয়া বস্র ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়, যাদের অনেকেই উচ্চপদস্থ ছিলেন। থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ৮০ জন ভিক্ষুকে তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ বাতিল করেন এবং ৮১ জনের রাজকীয় উপাধিও প্রত্যাহার করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় জুন মাসে, যখন একটি মঠের এক ভিক্ষু নিখোঁজ হয়ে যান। পরে জানা যায়, সীকার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তিনি মঠত্যাগ করেন। পুলিশ অনুসন্ধানে বের করে আনে পুরো চক্রের জাল, যা সমাজমাধ্যমে প্রভাবশালী ভিক্ষুদের টার্গেট করে তাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে।

এই ঘটনায় বৌদ্ধ সমাজে প্রবল ধাক্কা লেগেছে। ধর্মীয় নেতারা এখন বলছেন, ভিক্ষুদের আচরণ নিয়ে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন। থাইল্যান্ডে যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বৌদ্ধ, সেখানে এমন কেলেঙ্কারি ধর্মীয় আস্থা ও সামাজিক শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

Walton Ads