কুয়েতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। দেশটির সরকার ১,০৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের পর, যা কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে।

তদন্তে দেখা গেছে, বহু ব্যক্তি জাল পরিচয়, মিথ্যা কাগজপত্র এবং অবৈধ দ্বৈত নাগরিকত্বের মাধ্যমে কুয়েতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এই কর্মকাণ্ড কুয়েতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল রাই’ জানায়, তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০০৮ সালের পুরোনো একটি মামলার ভিত্তিতে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে তদন্তের গতি বাড়ানো হয় এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে ব্যবহৃত হয় ডিএনএ পরীক্ষা, সরকারি নথিপত্র যাচাই এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করতে চালানো হয় ডিএনএ পরীক্ষা। জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নথিপত্র কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হয়।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত। ওই ব্যক্তি তার নামে ১৬৬ জনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করান। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের অনেকের সঙ্গেই তার রক্তের সম্পর্ক নেই।

অন্য এক ঘটনায়, ১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এক মৃত ব্যক্তির নামে ৪৪০ জন নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে এবং ঘটনাটি নিয়ে গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক অভিযানে চারটি বড় মামলার আওতায় প্রায় ৭০০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করেছিলেন, যা কুয়েতি আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে শক্ত প্রমাণের ওপর। এটি কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চলবে। কুয়েত সরকার নাগরিকত্ব আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Walton Ads