নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে বন্দুক হামলায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামলাকারীর লক্ষ্য ছিল ন্যাশনাল ফুটবল লীগ (এনএফএল)-এর অফিস।
হামলাকারী ২৭ বছর বয়সী শ্যেন তামুরা লাস ভেগাস থেকে নিউইয়র্কে এসে এনএফএল অফিসে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সুউচ্চ ভবনে ভুল লিফটে ওঠায় সে অন্য ফ্লোরে চলে যায় এবং সেখানে শুরু করে গুলি চালানো।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের হাতে একটি চিরকুট এসেছে, যেখানে তামুরা অভিযোগ করেছে, তার মস্তিষ্কে আঘাতের জন্য এনএফএল দায়ী। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, ফুটবল খেলার সময় মাথায় আঘাত পেয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গেছে, তামুরা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হাই স্কুলে ফুটবল খেলতো এবং তার বাবা লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে ২০২২ ও ২০২৪ সালে তাকে দুইবার আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং পুরনো রাগ-ক্ষোভ কাজ করেছে। বিস্তারিত তদন্তে লাস ভেগাসে একটি দল পাঠানো হয়েছে, যারা তার অতীত জীবন ও চিকিৎসা ইতিহাস খতিয়ে দেখছে।
হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত হন। হামলার পর নিজেও আত্মহত্যা করে বন্দুকধারী। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যায়, ম্যানহাটানের একটি বহুতল ভবনে।
দিদারুল ইসলামের মরদেহ নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীরা পুলিশি পাহারায় মরদেহ নিয়ে আসেন এবং তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। দিদারুলের মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক বিরাজ করছে।
নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা হলেও বাস্তবায়নের সময় পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি ঘটেছিল, যা আরও ভয়াবহ কিছু ঘটে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে।