মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের হুমকির জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প এই নির্দেশনা দেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে সাবমেরিনগুলো কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। মেদভেদেভের বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প বলেন, মেদভেদেভের বক্তব্য বোকামিপূর্ণ ও উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য। তিনি সাবমেরিন মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত পরিণতি এড়ানোর পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা পাঠানোর পর মেদভেদেভ পশ্চিমা বিরোধী বক্তব্য দিতে থাকেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর তিনি আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প রাশিয়াকে ১০-১২ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে আসার হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে মেদভেদেভ ট্রাম্পকে আল্টিমেটাম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক ক্ষমতা সোভিয়েত যুগ থেকেই রয়েছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে তিনি গুরুত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, মেদভেদেভের বক্তব্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে তিনি আশা করেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে না। উভয় পক্ষের কথাবার্তায় উত্তেজনা বাড়ছে।
রাশিয়া এখনও ট্রাম্পের সময়সীমা মেনে চলার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
মার্কিন সাবমেরিন মোতায়েনকে রাশিয়ার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের কারণ হতে পারে।
মেদভেদেভের হুমকি এবং ট্রাম্পের জবাব দেখে মনে হচ্ছে, দুই দেশই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ। এই অচলাবস্থা ভবিষ্যতে কী দিকে মোড় নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আগেই খারাপ ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এটি শান্তি আলোচনার পথে বাধা সৃষ্টি করবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের মতো ঘটনা সাধারণত গোপন রাখা হয়। কিন্তু ট্রাম্প এটি প্রকাশ্যে এনে রাশিয়াকে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।