ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘর্ষবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল ‘মূল’—এই দাবিতে আরও জোরালো হল আমেরিকার সুর। এবার সরাসরি মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানালেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।
বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “ভারত আর পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু করেছিল, এবং আমরা সেই সময় সরাসরি যুক্ত ছিলাম। পরে যেভাবে শান্তি ফিরে এল, সেটাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে।”
এই দাবি অবশ্য নতুন নয়। সংঘর্ষবিরতির পর থেকেই বারবার ট্রাম্প বলে আসছেন, তিনিই যুদ্ধ থামিয়েছেন। তবে এবার তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও একে একে সেই দাবিকে সমর্থন করছেন।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ট্রাম্প যতদিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, প্রতি মাসেই নাকি একটি করে যুদ্ধ থেমেছে তাঁর হস্তক্ষেপে! তালিকায় আছে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, ইরান-ইজরায়েল, রোয়ান্ডা-কঙ্গো, সার্বিয়া-কসোভো, মিশর-ইথিওপিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত। আর তাতেই যুক্ত হয়েছে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিও।
রুবিও বলেন, “আমরা শুধু ভারতে নয়, থাইল্যান্ড ও রোয়ান্ডাতেও শান্তি ফেরাতে সফল হয়েছি। এবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতেও আমরা সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করব।”
তবে ভারতের তরফে এই দাবির একেবারেই বিরোধিতা করা হয়েছে। বরাবরের মতোই দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট—ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক বিষয়, কোনও তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। এমনকী, মোদি নিজে ফোনে ট্রাম্পকে বলেছেন, ইসলামাবাদের অনুরোধে আলোচনা হলেও তা শুধুই দ্বিপাক্ষিক স্তরে হয়েছে, কোনও বাইরের দেশের ভূমিকা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত দাবির পিছনে রয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। ভারতের জন্য যেখানে সার্বভৌমতা এবং স্বাধীন কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে প্রতিটি শান্তি চুক্তিতে ‘ক্রেডিট’ নেওয়াটা রীতিমতো রাজনৈতিক প্রচারের অংশ।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর আসল কৃতিত্ব কার? সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এই সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো। তবে আপাতত মোদি সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না, আর ট্রাম্প প্রশাসনও পিছু হটছে না—দুই পক্ষের মধ্যে এই ‘কৃতিত্ব যুদ্ধ’ চলতেই থাকবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।