ইসরায়েল গাজা শহর দখলের পরিকল্পনায় এক ধাপ এগিয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় সায় দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। শুক্রবার নেতানিয়াহুর দপ্তর এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) এ ঘোষণা দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পুরো গাজা উপত্যকা দখলের পথ খুলে যেতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিশেষ করে হামাসের হাতে আটক থাকা জিম্মিদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে।

নেতানিয়াহুর অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করতে ইসরায়েলের পাঁচটি শর্তকে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। শর্তগুলো হলো—হামাসের অস্ত্রসমর্পণ, সব জিম্মির মুক্তি, গাজা থেকে সামরিক ক্ষমতা সরিয়ে ফেলা, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষবিহীন বেসামরিক প্রশাসন গঠন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। যদিও শুক্রবারের বিবৃতিতে সরাসরি এই কথা বলা হয়নি, তবে The Times of Israel-এর বরাতে এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজা শহর দখলের পর সেনাবাহিনী পুরো গাজা জুড়েই অভিযান চালাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার বাসিন্দাদের ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে শহর ছাড়ার জন্য। এরপরই শুরু হতে পারে স্থল অভিযান।

এদিকে, হামাস নেতানিয়াহুর এই পরিকল্পনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা নেতানিয়াহুকে 'যুদ্ধাপরাধী' বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এই পরিকল্পনাকে 'গণহত্যা ও জবরদখলের নীতি'র ধারাবাহিকতা বলেছে। Press TV উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এখনও প্রায় ৫০ জন গাজায় আটক রয়েছেন। ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে গত ২১ মাসে গাজায় অন্তত ৬০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক—গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে এমনটাই বলা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিন ধাপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই পক্ষ। তবে মার্চেই তা ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে নানা আলোচনার মধ্যেও কোনও সমাধান আসেনি।

ইসরায়েলের জিম্মি আলোচনার দায়িত্বে থাকা দল মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করেছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আলোচনা ব্যাহত করতে পারে। নেতানিয়াহু অবশ্য বলেছেন, হামাস যদি ইসরায়েলের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে সামরিক অভিযান স্থগিত করা যেতে পারে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান আইয়াল জামিরও এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এতে জিম্মিদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে এবং বড়সড় মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিরোধী নেতা ইয়ায়ির লাপিদ এই সিদ্ধান্তকে “একটি বিপর্যয়” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এটি যুদ্ধকে দীর্ঘতর করবে, জিম্মি ও সেনাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করবে।

Walton Ads