মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কীভাবে সামলাতে হবে—এই গোপন কৌশল শিগগিরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানাবেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের চলমান শুল্ক-সংঘাতের মাঝেই এমন ঘোষণা দিয়ে চমকে দিলেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভারতীয় সাংবাদিকদের এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় নেতানিয়াহু বলেন,

“প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ট্রাম্প দু’জনই আমার দুর্দান্ত বন্ধু। ট্রাম্পকে সামলানোর বিষয়ে মোদিকে কিছু পরামর্শ দেব, তবে সেটা গোপন থাকবে।”

তিনি জানান, এ জন্য খুব শিগগিরই ভারত সফরে আসবেন।

নেতানিয়াহু ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে “খুব মজবুত” বলে আখ্যায়িত করেন এবং শুল্ক-সংঘাত দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি এতটাই দৃঢ় যে, একটি সমাধানে পৌঁছানো উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা করবে। ইসরাইলের জন্যও এটা ভালো হবে, কারণ ভারত ও আমেরিকা দু’জনেই আমাদের বন্ধু।”

গাজা, পাকিস্তান ও সামরিক সহযোগিতা
ফিলিস্তিনের গাজায় সাম্প্রতিক হামলা এবং পাকিস্তানে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও মুখ খোলেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, ওই অভিযানের আগে ভারতকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল ইসরাইল এবং সেসব অস্ত্র “দারুণভাবে কাজ করেছে”।

গাজা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন,

“আমাদের গাজা দখলের কোনো পরিকল্পনা নেই। লক্ষ্য কেবল হামাসকে ধ্বংস করা এবং জিম্মি হওয়া নাগরিকদের উদ্ধার করা। গাজাকে কখনও হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ
নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সত্যিই অসাধারণ। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত তথাকথিত নিরপেক্ষতা ছেড়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। এখন ইসরাইল আর ভারত প্রকৃত বন্ধু।”

এছাড়াও সীমান্তে সন্ত্রাস দমন জোরদার করতে ভারতকে আকাশপথে নজরদারির নতুন প্রযুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ট্রাম্পের শুল্কের কড়া সিদ্ধান্ত
এরই মধ্যে ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ২৫ শতাংশ ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে, আর বাকি ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে ২৭ আগস্ট থেকে।

তাছাড়া নতুন করে বাণিজ্য আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়, শুল্ক বাড়ানোর পর ভারতের সঙ্গে তিনি আরও আলোচনা চান কি না। জবাবে ট্রাম্প সোজাসাপ্টা বলেন, “না, চলমান উত্তেজনার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা নয়।”

তবে এই “চলমান উত্তেজনা” বলতে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান, রাশিয়ার তেল ক্রয় নাকি আগের ২৫ শতাংশ শুল্ক নিয়ে বিরোধ—ঠিক কোন বিষয় বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

 

Walton Ads