যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে নতুন মার্কিন অস্ত্র ও বিমান কেনার পরিকল্পনা আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। বিষয়টির সঙ্গে জড়িত তিন ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে এটি সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই খবরকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ দাবি করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শিগগিরই ওয়াশিংটনে গিয়ে বড় কিছু প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করার পর সফরটি বাতিল হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়াল ৫০%—যা দেশটির বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কিনে ভারত নাকি ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাচ্ছে। তবে নয়াদিল্লির দাবি, এই আমদানি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক এবং ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
স্থগিত আলোচনার মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ডায়নামিকসের তৈরি ‘স্ট্রাইকার’ যুদ্ধযান, রেথিয়ন ও লকহিড মার্টিনের জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোয়িংয়ের তৈরি ছয়টি পি-৮আই নজরদারি বিমান কেনা। বোয়িংয়ের সঙ্গে প্রস্তাবিত ৩৬০ কোটি ডলারের চুক্তি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল বলেও জানা গেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা অবশ্য বলছেন, এসব খবর ভিত্তিহীন, এবং ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক এগোচ্ছে।
চীনবিরোধী কৌশলগত কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের নিরাপত্তা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দীর্ঘদিন রুশ অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের কাছ থেকেও ব্যাপক হারে অস্ত্র কিনছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রুশ অস্ত্র রপ্তানি কমে যাওয়া ও কিছু অস্ত্রের দুর্বল পারফরম্যান্স এই পরিবর্তনের কারণ বলে মনে করছেন পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা।
ভারত জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাতে তারা প্রস্তুত—যদি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে সরবরাহ পাওয়া যায়। তবে বহু বছরের সামরিক সম্পর্কের কারণে রুশ অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব নয়।
শোনা যাচ্ছে, মস্কো সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে এস-৫০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত নতুন রুশ অস্ত্র কেনার দরকার নেই।
ট্রাম্প ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন কিছু নয়। অতীতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল—যা দিল্লি একাধিকবার অস্বীকার করেছে। এছাড়া কাশ্মির সংঘাতের পরপরই তিনি হোয়াইট হাউজে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে আরও শীতলতা আনে।