প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আমদানি করের হার পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি এখন সরাসরি আঘাত করছে মার্কিন ভোক্তা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশাকে।
কে কত শুল্ক দিচ্ছে
এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ দেশ এখন ১৫% শুল্কের মুখে, কয়েকটি এশীয় দেশ ১৯% এবং আরও কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার ২০% থেকে ৫০%। চীনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন—আগামী সপ্তাহ থেকে চীনা পণ্যে ৫৫% শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা।
মার্কিন সরকারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, জুন থেকেই শুল্কের প্রভাবে মুদি পণ্য, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী সরঞ্জামের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ল্যাব বলছে, স্বল্পমেয়াদে দাম বাড়বে ১.৮%, যা মার্কিন পরিবারের বার্ষিক আয় গড়ে ২,৪০০ ডলার কমিয়ে দিতে পারে।
কখন, কিভাবে বাড়ল শুল্ক
এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ৬৬টি দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে আমদানিতে বড় শুল্ক আরোপ করেন। লক্ষ্য ছিল দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বাণিজ্যের ভারসাম্য রাখা। সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ১০% সাধারণ কর চালু করা হয়, আর ১ আগস্ট থেকে শুল্ক আরও বাড়ানোর ঘোষণা কার্যকর হয় গত বৃহস্পতিবার।
কানাডিয়ান পণ্যে ৩৫% এবং ব্রাজিলিয়ান পণ্যে ৫০% শুল্ক বসেছে। ভারতের ক্ষেত্রে, রাশিয়ান তেল কেনার কারণে শুল্ক ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করা হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং ওষুধের ওপরও পৃথক শুল্ক বহাল আছে।
দাম কোথায় সবচেয়ে বেশি চড়ছে
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানাচ্ছে, পোশাক ও জুতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত—জুতার দাম বাড়তে পারে ৩৯% এবং পোশাকের ৩৭%। বর্তমানে আমেরিকানরা গড়ে ১৮.৬% আমদানি কর দিচ্ছে, যা ১৯৩৩ সালের পর সর্বোচ্চ।
খাদ্যপণ্যের খরচ বাড়বে আরও
এক নিরপেক্ষ কর বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত খাবার উৎপাদন করে না, ফলে শুল্ক সরাসরি খাদ্যদাম বাড়াবে। মাছ, কফি, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, কলা ও বিয়ারের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যালকোহল শিল্পের সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে—ইউরোপীয় পানীয়তে ১৫% শুল্ক বসালে ২৫,০০০ চাকরি হারিয়ে যেতে পারে এবং বিক্রিতে ক্ষতি হবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
গাড়ির বাজারে আপাতত স্থিতি, তবে…
ফেরারি কিছু মডেলের দাম বাড়ালেও বেশিরভাগ ব্র্যান্ড এখনো অপেক্ষায় আছে। তবে জেনারেল মোটরস সতর্ক করেছে—তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রভাব বেশি দেখা যাবে। টয়োটা জানিয়েছে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তাদের মুনাফা কমেছে ৩৭%, যার জন্য ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে।
ভবিষ্যত এখনো অনিশ্চিত
ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে এবং হয়তো সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবে। চীনা পণ্যের শুল্ক এখনো চূড়ান্ত নয়। পাশাপাশি, ৮০০ ডলারের কম মূল্যের প্যাকেজে কর ছাড়—যা ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে শুল্ক এড়াতে দিত—২৯ আগস্ট থেকে বাতিল হচ্ছে।