ওয়াশিংটন, ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী এখন যেন টানটান উত্তেজনায় জর্জরিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দিলেন “অপরাধ জরুরি অবস্থা” — আর সেই সুযোগেই হোয়াইট হাউস নিয়ন্ত্রণ নিল স্থানীয় পুলিশের, রাস্তায় নামিয়ে দিল ন্যাশনাল গার্ড। এই পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ডিসির বাসিন্দারা, যাদের দাবি—এটা আসলে তাদের অধিকার হরণ।
হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক ব্লক দূরেই সোমবার বিকেলে জড়ো হন হাজারো মানুষ। স্লোগানে ফেটে পড়া জনতা বলছে, এটা কেবল নিরাপত্তার নামে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৮০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ২০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দেবে।
ফ্রি ডিসির নির্বাহী পরিচালক কেয়া চ্যাটার্জি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটা শুধু নজিরবিহীন না, সরাসরি কর্তৃত্ববাদ।”
ডিসির পুরনো ক্ষোভ ও বঞ্চনার ইতিহাস
১৭৯০ সালে মেরিল্যান্ড আর ভার্জিনিয়া থেকে জমি কেটে তৈরি হয় ওয়াশিংটন ডিসি। এখানকার বাসিন্দারা কখনও রাজ্যের মর্যাদা পাননি। ১৯৭৩ সালে কিছু স্থানীয় শাসনের অধিকার এলেও কংগ্রেস আজও বাজেট অনুমোদন থেকে আইন পর্যালোচনা—সবকিছুতে শেষ কথা বলে।
এ শহর একসময় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর, এখনও আফ্রো-আমেরিকানদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। তাই ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে দীর্ঘ বঞ্চনা স্থানীয়দের কাছে বর্ণবৈষম্যেরই আধুনিক রূপ। নাগরিক অধিকার নেতা রেভ. আল শার্পটন ট্রাম্পের পদক্ষেপকে বলেছেন “ন্যায়বিচারের প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা”।
বিক্ষোভকারীদের ভয় – ‘আমরা নিয়ন্ত্রণ হারাব’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী ছাত্র আমারি জ্যাকের আশঙ্কা, “এটা ডিসির স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ।” তার মতে, ট্রাম্প বহুদিন ধরে হোয়াইট হাউসের চারপাশের এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছেন।
আরেক বিক্ষোভকারী রাধা ট্যানার বললেন, “অপরাধের অজুহাত দেখিয়ে ট্রাম্প রাজনৈতিক খেলা খেলছেন। ডিসিকে অপরাধে ভরা শহর হিসেবে দেখানো হচ্ছে শুধু বিরোধীদের বদনাম করার জন্য।”
ট্রাম্পের যুক্তি – ‘রাজধানী ফেরত নেব’
ট্রাম্পের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী আর অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোকে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলবেন। এমনকি তিনি বলেছেন, গৃহহীনদেরও সরিয়ে দেবেন—যদিও বিস্তারিত জানাননি।
তবে ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব পাল্টা বলছেন, “এখানে কোনো অপরাধ জরুরি অবস্থা নেই।” পরিসংখ্যানও তার দাবিকে সমর্থন করছে—২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে সহিংস অপরাধ ৩৫% কমেছে, এ বছরও আরও ২৬% হ্রাস পেয়েছে।
‘সামরিকীকরণ মানেই সহিংসতা’
৬০ বছর বয়সী মরিস কার্নি মনে করিয়ে দেন, সেনা বা গার্ড নামানো কখনও দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমায়নি। বরং সামরিকীকরণ প্রতিরোধ বাড়ায়, কখনও অস্থিতিশীলতাও ডেকে আনে। তার মতে, “ট্রাম্প যদি নিজেকে আইন-শৃঙ্খলার রক্ষক হিসেবে দেখাতে চান, ডিসিই তার জন্য সেরা জায়গা। কিন্তু এখানকার মানুষও প্রতিরোধ করবে।”