ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা শহরে নতুন হামলার ‘কাঠামো’ অনুমোদন করেছে। হামাস-মিশরের আলোচনা, বেসামরিক নিহত, মানবিক সংকট—সব কিছুই তীব্র উদ্বেগ তৈরি করছে। গাজা সিটিতে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি বিমান হামলা বাড়ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহ সীমিত, দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার গাজা উপত্যকায় নতুন সামরিক অভিযানের জন্য মূল পরিকল্পনার কাঠামো অনুমোদন করেছে। সেনাদের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে দেশের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের আহ্বান জানিয়েছিল।
তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো ঘোষণা করেননি, ইসরায়েলি সেনারা ঠিক কবে গাজা শহরে প্রবেশ করবে। শহরটি এখনও হাজারো বেসামরিক মানুষে ভর্তি, যারা পূর্ববর্তী হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিল।
সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সম্প্রতি ইসরায়েলি বিমান হামলা গাজা শহরে আরও তীব্র হয়েছে। জেইতুন ও সাবরা আবাসিক এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘর, সম্ভবত বহুতল ভবনও লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযান অনুমোদনের খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে হামাস জানিয়েছে, তাদের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি মিসরের কায়রোয় পৌঁছেছে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য।
টানা ২২ মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ও দেশীয়ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহ সীমিত, ফলে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামাসের আঘাতে এক হাজার ২১৯ জন নিহত হয়েছিল। এরপর ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ হাজার ৫৯৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যা জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে।