পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতে বড় রকমের কূটনৈতিক জয় পেয়েছে। স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ) রায় দিয়েছে—ভারতকে পশ্চিমা নদীগুলোর পানি অবাধে প্রবাহিত রাখতে হবে, যাতে পাকিস্তান তা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারে।
১১ আগস্ট প্রকাশিত রায়ে আদালত স্পষ্ট বলেছে, ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) মেনে চলতে বাধ্য এবং নিজেদের মতো করে নিয়ম চাপিয়ে দিতে পারবে না। রায় পাওয়ার পরপরই পাকিস্তান এটিকে "ন্যায়বিচার" বলে স্বাগত জানিয়েছে।
পানিচুক্তি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক
গত এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে ভারত সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করেছিল। তখন পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছিল, "পানির প্রবাহ বন্ধ করাকে তারা যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখবে!"
পিসিএ জানিয়েছে, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আইডব্লিউটির সঠিক ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা এবং ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা। পাকিস্তান আশা করছে, ভারত শিগগিরই চুক্তির শর্ত মেনে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনবে।
পাকিস্তানের চিন্তা কী?
পাকিস্তানের দাবি, ভারতের বাঁধ নির্মাণ সিন্ধু নদীর প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যা তাদের ৮০% সেচের জন্য অপরিহার্য। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র সফরেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "ভারত যদি বাঁধ বানায়, আমরা তা ধ্বংস করব। সিন্ধু নদ ভারতের নয়!"
ভারতের জবাব কী?
ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব এসেছে—"জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" পাকিস্তানের এই হুমকিকে ভারত "পারমাণবিক ইঙ্গিত" হিসেবে দেখলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে। তারা নিজেদেরকে "দায়িত্বশীল পারমাণবিক রাষ্ট্র" দাবি করে বলেছে, "আমরা শান্তি চাই, কিন্তু অধিকার ছাড়ব না!"
এখন কী হবে?
এই রায়ের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পানি নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। পাকিস্তান যদি মনে করে ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করছে, তাহলে আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও কঠোর হতে পারে। অন্যদিকে, ভারত যদি পানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি নেয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।