পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে আবারও রক্তগঙ্গা বয়ে গেল। সোমবার রাতে ওয়াশুক জেলায় এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে ৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কী ঘটেছিল?
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ডজনখানেক সশস্ত্র জঙ্গি একটি থানা ও সীমান্ত বাহিনীর ক্যাম্পে একযোগে হামলা চালায়। সেনারা পাল্টা অভিযান চালাতে গেলে প্রচণ্ড গুলিবিনিময় হয়। এতে ৯ জন সেনা সদস্য নিহত হন।
এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৪০-৫০ জন জঙ্গি মোটরসাইকেলে করে এসে সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়। তারা ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ক্যাম্পে হাতবোমা নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্ত:
এই হামলার দিনই যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। যদিও বিএলএ বেলুচিস্তানের সবচেয়ে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী, তবুও এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ:
বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ দমনের নামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কঠোর দমননীতির অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলছে, সেনাবাহিনীর এই ধরনের কর্মকাণ্ডই অঞ্চলটিতে সহিংসতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত?
এই হামলার পর বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে অঞ্চলটিতে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
এখন কী হবে?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তান সরকার কি বিদ্রোহ দমনে আরও কঠোর হবে, নাকি রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটবে?