গাজা সিটিতে মঙ্গলবার ১২ আগস্ট রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য মিসরের রাজধানী কায়রোতে পৌঁছেছেন হামাস নেতা খলিল আল-হায়া, খবর দিয়েছে রয়টার্স।

হামাসের কর্মকর্তা তাহের আল-নোনো জানিয়েছেন, বুধবার তারা মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে— যুদ্ধ থামানো, ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং গাজাবাসীর ভোগান্তি কমানো।

এর আগে জুলাইয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার শেষ দফা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

মিসর সফরের বিষয়ে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেছেন, হামাস আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং যুদ্ধের অবসানের জন্য সব ধরনের সংলাপে রাজি। তবে বড় বাধা এখনও রয়ে গেছে— বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মাত্রা এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েল সাময়িকভাবে গাজা সিটি দখল করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী অক্টোবরের মধ্যে আবারও গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা করছেন। এতে ২২ লাখ মানুষের মধ্যে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের ভেতরেও সমালোচনা উঠেছে। দেশটির সেনাপ্রধান সতর্ক করেছেন, এই অভিযান জীবিত জিম্মিদের জন্য বিপজ্জনক এবং সেনাদেরও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।

এদিকে ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জাপানসহ ২৪ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে গাজার মানবিক সংকটকে ‘অকল্পনীয়’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে ত্রাণ প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, খাদ্য সংকটের জন্য তারা দায়ী নয়— বরং হামাস ত্রাণ চুরি করছে। তারা আরও বলেছে, ত্রাণ প্রবাহ বাড়াতে সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ রাখা এবং সুরক্ষিত রুট চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

Walton Ads