আমেরিকা-পাকিস্তানের নতুন বন্ধুত্বে ভারতের কূটনৈতিক চিন্তা বেড়েছে! সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের 'সাফল্য' স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দিল্লির জন্য অস্বস্তির কারণ। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান পরমাণু হুমকি দিয়েছেন। ভারত-আমেরিকার সম্পর্কেও টানাপোড়েন চলছে। কী হবে এই নতুন সমীকরণে? জানুন পুরো খবর!

আমেরিকা-পাকিস্তান বন্ধুত্বে ভারতের অস্বস্তি
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে ইসলামাবাদে দুই দেশের উঁচু পর্যায়ের বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে— সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান বড় সাফল্য পেয়েছে। এই মন্তব্য ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান শুধু নিজ দেশে নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়েও সন্ত্রাস ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও, সম্প্রতি পাকিস্তানে জাফর এক্সপ্রেসে হামলা ও খুজদারের স্কুলে বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই আমেরিকার প্রশংসা
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার এই বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে। ভারতের দাবি, তারা 'অপারেশন সিঁদুর'-এর মাধ্যমে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস করেছে। দিল্লি বারবার বলছে, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় আছে এবং সরকারই তাদের সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদ সবসময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার পাকিস্তান-প্রশংসা ভারতের জন্য অস্বস্তিকর। বিশেষ করে যখন ভারত-আমেরিকার সম্পর্কও বাণিজ্যিক ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে ৫০% শুল্ক বসিয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে তেল চুক্তি করে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে।

পাকিস্তানের পরমাণু হুমকি, আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন— পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। আর তাদের অস্তিত্ব যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে "অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংস হবে।" এই হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

বড় প্রশ্ন:
আমেরিকা কি আসলে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে? ভারতের জন্য কি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়তে চলেছে? নাকি এটা শুধুই সাময়িক সম্পর্কের উন্নতি?

 

Walton Ads