মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভয়ঙ্কর বোমা হামলার পরও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর 'বি-টু' স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় শক্তিশালী 'বাংকার বাস্টার' বোমা ফেলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু পেন্টাগনের গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ফোরদো ছাড়া বাকি দুটি স্থাপনায় তেমন ক্ষতি হয়নি!

ইরানের জবাব: "আমরা পিছপা হবো না!"

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর নেতৃত্বে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তারা পশ্চিমাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী বলেছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার খরচ করে ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ধ্বংস করতে চায়, কিন্তু আমরা কখনোই ভয় পাই না!" ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রেস টিভি ১৩ আগস্ট এই ঘোষণা সম্প্রচার করে।

১২ দিনের যুদ্ধে কী হয়েছিল?

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ১২ দিনের একটি সামরিক অভিযানে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এই হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। তবে এই হামলা কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ইউরোপের হুমকি: "ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করো, নইলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা!"

ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন ইরানকে সতর্ক করে বলেছে—যদি ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ না করে, তাহলে তারা 'স্ন্যাপব্যাক' প্রক্রিয়ায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। কিন্তু পশ্চিমারা এই দাবিতে বিশ্বাস করে না।

আলোচনা ব্যর্থ, উত্তেজনা বাড়ছে!

সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তানবুলে ইরান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অবস্থায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইল পালাচ্ছে?

ইরানের জবাবি হামলার ভয়ে ইসরাইল কিছু কূটনৈতিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হচ্ছে—কে কী করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

 

Walton Ads