লোহিত সাগরে হঠাৎ এক রহস্যজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে—যেখানে চীনা গাড়ি বহনকারী জাহাজগুলো হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। ২০২৩ সালের শেষ থেকে হুথিরা নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, যা তারা গাজার ফিলিস্তিনিদের সমর্থন হিসেবে দেখাচ্ছে। এতে অন্য দেশের জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন সরাসরি অথবা ইরানের মাধ্যমে হুথিদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছে। ইরান হুথিদের প্রধান সমর্থক এবং চীনের বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ। ফলে তেহরানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বেইজিংয়ের গাড়ি রপ্তানিকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে এই সুবিধা সব চীনা জাহাজের জন্য নয়—শুধু ইউরোপগামী গাড়ি বহনকারী জাহাজই নিরাপদে সাগর পার হচ্ছে। বিদেশি পতাকা থাকা সত্ত্বেও, জাহাজে চীনা গাড়ি থাকলেই হামলা এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্য চীনা জাহাজও নিরাপত্তার কারণে রুট পরিবর্তন করছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই সমঝোতা খুবই লাভজনক। লোহিত সাগরের বদলে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরলে সময় ১৪–১৮ দিন বেড়ে যায় এবং খরচ বাড়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি গাড়িতে অতিরিক্ত কয়েকশো ডলার যোগ করে। চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য এই খরচ বড় ধাক্কা হতে পারত, তাই কূটনৈতিক সমঝোতাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
হুথিদের জন্যও এটি সুবিধাজনক—তারা পশ্চিমা দেশের জাহাজে হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা পাচ্ছে। লোহিত সাগর এখন দ্বিমুখী বাস্তবতা—কারও জন্য বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র, কারও জন্য নিরাপদ বাণিজ্যপথ। চীনা গাড়ি নির্মাতারাই এই ‘নিরাপদ ঢেউয়ের’ সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী।