রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় বৈঠকে বসছেন। কিন্তু আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না দিলে ভারতের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা আসতে পারে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, বৈঠক ব্যর্থ হলে ভারতের ওপর নতুন শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর সেকেন্ডারি ট্যারিফ বসানো হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক ঘোষণা করেছেন। আগের ২৫% শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০%— যার অর্ধেক ইতোমধ্যেই কার্যকর, বাকি অংশ ২৮ আগস্ট থেকে প্রযোজ্য হবে।

৫ আগস্ট সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে খোলা বাজারে বিক্রি করে লাভ করছে। তিনি এটিকে দায়জ্ঞানহীন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ভারতের বাণিজ্য নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ভারত কড়া জবাব দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শুল্ক আরোপ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। তারা উল্লেখ করেছে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে উৎসাহ দিয়েছিল, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকে।

ভারত আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালাচ্ছে। এমনকি যুদ্ধ শুরুর পর তাদের লেনদেনের পরিসংখ্যানও প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্পের হুমকির পরও ভারত জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি ভাঙার কোনো পরিকল্পনা নেই।

 

Walton Ads