ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের প্রকাশ্য পরমাণু হুমকির জবাবে এবার সরাসরি সতর্ক করল নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের ফল হবে “যন্ত্রণাদায়ক”—যেমন ঘটেছিল অপারেশন সিঁদুরের সময়। তিনি পাকিস্তানের মন্তব্যকে ‘পুরোনো কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়ে জানান, ভারত প্রয়োজনে কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ায় দ্বিধা করবে না।
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় আসিম মুনিরের বক্তব্য থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে এক নৈশভোজে তিনি বলেন, “পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি আমরা ধ্বংসের পথে যাই, তাহলে অর্ধেক বিশ্বকেও সঙ্গে নিয়ে যাব।” তিনি আরও হুমকি দেন, ভারত যদি সিন্ধু পানি চুক্তি ভঙ্গ করে বাঁধ তৈরি করে, তাহলে তা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংস করা হবে।
শুধু সেনাপ্রধানই নন—পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোও একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত যদি আগ্রাসন চালায়, তবে ছয়টি নদীর পানি নিশ্চিত করতে যুদ্ধ ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
আন্তর্জাতিক মহল এই ধারাবাহিক পরমাণু হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র মুনিরের বক্তব্য প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়নি, তারা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের প্রশংসা করেছে—যা অনেকের কাছে ‘দ্বৈত বার্তা’ হিসেবে ধরা পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—সিন্ধু পানি চুক্তি ভেঙে গেলে দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও জলনিরাপত্তা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিহাসবিদরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ থেকে শুরু করে ভারত-পাকিস্তানের প্রতিটি বড় সংঘাতে পরমাণু হুমকি এসেছে; বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ঝুঁকি আরও বেশি।
নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে—জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে তারা পিছু হটবে না। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।