পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক আবারও ভয়াবহ উত্তেজনার মুখে। স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাদ শরীফ ঘোষণা দিলেন— দেশটি এখন থেকে চীনের মতো নিজস্ব “রকেট ফোর্স কমান্ড” নিয়ে মাঠে নামছে। সীমান্তে টানটান পরিস্থিতি ও সিন্ধু নদের পানিবিষয়ক বিরোধের মধ্যেই এ ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলল।

শাহবাদ শরীফ জানান, পাকিস্তানের এই নতুন সামরিক শাখা হবে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং এতে থাকবে বিপুল সংখ্যক প্রচলিত মিসাইল ও রকেট, যার মধ্যে রয়েছে ফাতেহ সিরিজসহ আরও নানা মিসাইল ব্যবস্থা। যদিও এটি আর্মি স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স কমান্ডের সমান্তরালে কাজ করবে, তবে এতে পারমাণবিক অস্ত্র নয়— শুধু প্রচলিত মিসাইল ও রকেটই ব্যবহৃত হবে।

🔺 চীনের মডেলেই রকেট ফোর্স গঠন
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ সরাসরি ভারতের ব্রহ্মোস, অগ্নি সিরিজ ও প্রহরী মিসাইলের পাল্টা জবাব। চীনের PLA রকেট ফোর্সের আদলে তৈরি এই বাহিনী শত্রুকে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার মিসাইল দিয়ে একযোগে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, পাকিস্তান পূর্বেও ভারতের দিকে চীনে তৈরি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।

🔺 ভারতকে ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি
শাহবাদ শরীফ তার ভাষণে ভারতকে আক্রমণ করে বলেন, “মিথ্যা অভিযোগে বিনা প্ররোচনায় পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। কিন্তু মাত্র চার দিনেই তাদের গর্ব ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যারা জীবন বাজি রেখে লড়তে প্রস্তুত, এমন জাতিকে কোনোদিন পরাজিত করা যায় না।”

🔺 পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গও টেনে আনলেন শরীফ
রকেট ফোর্সের পাশাপাশি পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি নিয়েও কথা বলেন তিনি। জুলফিকার আলী ভুট্টো, ড. আব্দুল কাদের খান ও সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পাকিস্তানের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে, তবে সেটি কোনো আগ্রাসনের জন্য নয়— বরং প্রতিরক্ষার জন্য।”

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। সীমান্তে ইতিমধ্যেই এক ভারতীয় সেনার মৃত্যু এবং পানিবিষয়ক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ফলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আবারও এক ভয়ংকর মোড় নিতে পারে।

 

Walton Ads