ভারতের কাশ্মীরে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬০ জনের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ। প্রবল বর্ষণের পর হঠাৎ নেমে আসা পানি ও কাদামাটির স্রোতে ভেসে যায় তীর্থযাত্রী ও স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জম্মু-কাশ্মীরের কিশতোয়ার জেলায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, চাসোতি গ্রামে দুপুরে খাবারের জন্য জড়ো হয়েছিলেন মাচাইল মাতার মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীরা। ঠিক তখনই পাহাড় থেকে নেমে আসা গর্জনধ্বনির সঙ্গে ভয়াবহ কাদামাটির ধস গ্রামটিকে মুহূর্তে গ্রাস করে। অনেকেই পড়ে যান চেনাব নদীতে, অনেকে আবার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

উদ্ধার তৎপরতা চলছে
উদ্ধারকর্মীরা দড়ি, শাবল ও অস্থায়ী সেতু ব্যবহার করে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, আরও অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেনা ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মাচাইল যাত্রা ও বিপর্যয়
হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত মাচাইল মাতার মন্দিরে এই বার্ষিক তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দেবী দুর্গার এক রূপকে উৎসর্গ করা এই মন্দিরে পৌঁছতে তীর্থযাত্রীদের হেঁটেই যেতে হয়, কারণ চাসোতির পর গাড়ির রাস্তা নেই। দুর্যোগের দিনও হাজারো মানুষ যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।

ভারতে দুর্যোগের ছাপ
মাত্র এক সপ্তাহ আগে হিমালয়ের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে একটি পুরো গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। ফলে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মোদির প্রতিক্রিয়া
এদিকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ভাষণে এই বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“প্রকৃতি আমাদের পরীক্ষা করছে। গত কয়েক দিনে আমরা ভূমিধস, মেঘভাঙা বর্ষণ ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন ঘটছে।

 

Walton Ads