আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু প্রতীক্ষিত ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১:৩০) আলাস্কার জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে দুই দেশের নেতারা মুখোমুখি হন।
এই বৈঠক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে এটিই তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এছাড়া, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমবার রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন।
উপস্থিত মুখ্য প্রতিনিধিরা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। রাশিয়ার প্রতিনিধি দলে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ এবং রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ।
মূল আলোচ্য বিষয়:
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় খোঁজা। বৈঠকের লক্ষ্য—সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করা।
কেন আলাস্কা?
বৈঠকের জন্য আলাস্কার এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন ঘাঁটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে কৌশলগত ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব। একসময় রাশিয়ার মালিকানাধীন আলাস্কা, যা প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। পাশাপাশি, এটি একটি নিরাপদ সামরিক এলাকা, যেখানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিরাপদভাবে আয়োজন করা সম্ভব।
আলোচনার আগে ট্রাম্পের মন্তব্য:
ট্রাম্প বলেন, “আলোচনার ফলপ্রসূ হতে হবে, নইলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
ইউক্রেনকে না আমন্ত্রণ দেওয়ায় বিতর্ক
যদিও বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ইউক্রেনপন্থী রাজনৈতিক নেতারা এটিকে “রাশিয়ার জয়” হিসেবে দেখছেন।
বিশ্ব নেতারা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানালেও, বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফল জানতে হবে আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত।