পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি নির্মাণ পরিকল্পনায় কড়া বার্তা দিয়েছে জার্মানি। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বার্লিন থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই পদক্ষেপ শুধু ফিলিস্তিনিদের জীবনে ঝড় ডেকে আনবে না, বরং শান্তি আলোচনাও গভীর সংকটে পড়বে।
স্মোটরিচের ঘোষণায় বিস্ময় জার্মানির
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। এর আওতায় পশ্চিম তীরে ৩,৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হবে—একটি বিদ্যমান বসতি এবং জেরুজালেমের মাঝখানে।
স্মোটরিচের দপ্তরের ভাষায়, “এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।”
‘ই-ওয়ান’ অঞ্চল নিয়ে বার্লিনের উদ্বেগ
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এই বসতি নির্মাণ পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে ভাগ করে দেবে এবং পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিশেষ করে, ‘ই-ওয়ান’ অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলা ফিলিস্তিনিদের চলাচল এবং জীবনযাত্রাকে চরমভাবে প্রভাবিত করবে।
আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে?
জার্মানি একাধিকবার জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বার্লিন বলছে, “এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথ আরও কঠিন করে তুলছে এবং ইসরায়েলের দখলদারিত্ব দীর্ঘস্থায়ী করছে।”
শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা আরও বাড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের সম্ভাব্য রাজধানী বানানোর প্রচেষ্টাকেও ধাক্কা দেবে।
জার্মানির কূটনৈতিক ভাষায় দেওয়া বার্তা এবার যথেষ্ট স্পষ্ট: ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যই নষ্ট করবে না, বরং পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়াবে।