আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে ‘অ্যাপারথাইড’ বা বর্ণবৈষম্যমূলক দমননীতি অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদনপত্র প্রস্তুত আছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই পরোয়ানা আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে আছে।
আইসিসির একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান কৌঁসুলি করিম খান মে মাসে ছুটিতে যাওয়ার আগে এই দুটি মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তবে আবেদন আদালতে জমা দেওয়ার আগে তিনি সরে দাঁড়ান। এখন এই ক্ষমতা দুই ডেপুটি প্রসিকিউটরের হাতে থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে তারা আবেদন জমা দিচ্ছেন না।
যদি এই পরোয়ানা কার্যকর হয়, আন্তর্জাতিক আদালতে প্রথমবারের মতো অ্যাপারথাইড অপরাধ হিসেবে চার্জ গঠন হবে। রোম সংবিধি অনুযায়ী, অ্যাপারথাইড মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত।
ইসরাইলের দখল নীতি ও ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের কারণে দেশটির বিরুদ্ধে অ্যাপারথাইডের অভিযোগ তুলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেমসহ বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও, গত বছর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজা ও পশ্চিম তীরের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং বর্ণবৈষম্য বন্ধে ইসরাইলের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চাপ, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের ওপর রাজনৈতিক হুমকি এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসি বর্তমানে জটিল অবস্থায় রয়েছে। ফলে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা এখন অনিশ্চিত।