ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে আবারও নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষা অনুসন্ধান ও প্রশিক্ষণ পরিষদ বা এনসিইআরটি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য যে নতুন পাঠ্যসূচি প্রকাশ করেছে, সেখানে দেশভাগের দায় চাপানো হয়েছে কংগ্রেস, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপর।
পাঠ্যসূচিতে বলা হয়েছে, দেশভাগ কোনো একক নেতার সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তিন পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা ঘটেছিল। জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেন, কংগ্রেস অবশেষে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়, আর মাউন্টব্যাটেন বিভাজন কার্যকর করেন।
এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেছেন, এই পাঠ্যসূচি ‘আগুনে পুড়িয়ে ফেলা উচিত’। তার অভিযোগ, বিজেপি সরকার ইতিহাস বিকৃত করে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চাইছে। কংগ্রেসের মতে, দেশভাগের মূল দায় ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিভাজননীতি, মুসলিম লীগের জেদি মনোভাব এবং তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
এর আগেও মোদি সরকারের সময় পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের আরএসএস-সম্পর্কিত তথ্য এবং ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার অধ্যায়। সমালোচকদের দাবি, এবার দেশভাগের দায় কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপিয়ে সরাসরি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিহাসের বহুমুখী দায়কে একপাক্ষিকভাবে তুলে ধরা ভারতের পাঠ্যক্রমকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলছে। এতে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশভাগ ছিল এক আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডি। প্রায় দেড় কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিলেন, আর প্রাণ হারিয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। ইতিহাসবিদদের মতে, এই দায় কাউকে এককভাবে চাপানো যায় না। অথচ এনসিইআরটির নতুন পদক্ষেপ যেন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভুল ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে।