মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া তাদের অন্যতম বড় ক্রেতা ভারতকে হারিয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির ওপর রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য কঠোর শাস্তি ঘোষণা করেছে। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেল কিনতে থাকা দেশগুলোর বিরুদ্ধে তিনি হয়তো বাড়তি শুল্ক দেবেন না।

ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে, ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার মতো আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে।
ওয়াশিংটন আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো না গেলে শুধু রাশিয়ার ওপর নয়, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপরও চাপ আসবে। রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চীন ও ভারত।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “পুতিন এক অর্থে একজন বড় গ্রাহককে হারালেন—সেটা হলো ভারত, যারা প্রায় ৪০ শতাংশ তেল কিনছিল। চীনও প্রচুর কিনছে… আর যদি আমি বাড়তি শুল্ক দিই, তাহলে সেটা তাদের জন্য ভয়ংকর হবে।”
তিনি এই মন্তব্য করেন আলাস্কায় রওনা হওয়ার আগে, যেখানে তার রুশ সমকক্ষ ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা।
৬ আগস্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেন। কারণ তখনো ভারত রাশিয়ার তেল কিনছিল। এ সিদ্ধান্তে ভারতের টেক্সটাইল, সামুদ্রিক পণ্য ও চামড়াজাত রপ্তানি খাত বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভারত পিছু হটবে না।

এখন পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও। রাশিয়া, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে “বেআইনি চাপ” বলে নিন্দা জানিয়েছে।
ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুল্ক ঘোষণার পর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করেছে। তবে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
অন্যদিকে ভারতীয় তেল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ এস সাহনি বলেছেন, ভারত তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি, বরং সব সিদ্ধান্তই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক কি না, তা ভেবেই নেওয়া হচ্ছে।
 

Walton Ads