মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে হিজবুল্লাহর সতর্কবার্তা। সংগঠনটির মহাসচিব নাঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন চলতে থাকলে প্রতিরোধ যোদ্ধারা কখনোই অস্ত্র ছাড়বে না। বরং জোরপূর্বক তাদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা লেবাননকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। খবর দিয়েছে প্রেস টিভি।
কাসেম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে “আধুনিক যুগের ইয়াজিদ” আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতিরোধ আন্দোলন মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর আগে, ৫ আগস্ট লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নো আফসালাম সেনাবাহিনীকে বছরের শেষ নাগাদ বিদেশি অস্ত্র সীমিত করার নির্দেশ দেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত মূলত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কৌশল। পরে মন্ত্রিসভাও মার্কিন প্রস্তাবিত এ লক্ষ্যকে সমর্থন করে।
এ প্রসঙ্গে কাসেম বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত লেবাননের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করবে এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরিবারকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না। তবে কেউ যদি দেশকে সংঘর্ষে ঠেলে দেয়, প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রস্তুত।” একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার জন্য কাজ করছে। ওয়াশিংটন মনে করে, লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহকে দমাতে পারলেই ইরানকে কঠিন বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য ট্রাম্প প্রশাসন বৈরুত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যেখানে লেবাননও ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে—তারা সবসময় লেবাননের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ইরান বলছে, লেবাননের আত্মরক্ষা ও ইসরাইলি আগ্রাসনের মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা অপরিহার্য।
 

Walton Ads