কলকাতার আইকনিক নিউমার্কেট—এক সময় যেখানে বাংলাদেশি পর্যটক ও ক্রেতাদের ভিড় ঘনঘন দেখা যেত, এখন সেখানে চোখে পড়ে একরকম ফাঁকা পরিস্থিতি। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক শীতল হওয়ার পর বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিটের দোকান, মল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে এখন আগের মতো ভিড় নেই। সারাদিন ঘুরেও কয়েকজন বাংলাদেশি চিকিৎসা ভিসা নিয়ে আসা রোগী ছাড়া পর্যটক দেখা যায় না। তাদের হাতেগোনা কয়েকজনই সামান্য কেনাকাটা করছেন, আগের মতো বড় বড় স্যুটকেস ভর্তি ক্রেতা নেই।
ঢাকার বাসিন্দা আসিফ হোসেন জানান, “আমি মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য এই বছর তিনবার ভারতে এসেছি। এবার মেডিকেল ভিসায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েছে।”
মারকুইস স্ট্রিটের পরিবহন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পরিবর্তনের পর ভারত সরকার পর্যটক ভিসা বন্ধ করায়, আগের মতো হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতিদিন আসা বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু যারা আগে মেডিকেল ভিসা পেয়েছিলেন, তারা আসছেন। সম্প্রতি মেডিকেল ভিসা নিয়মে উদারতা আসায় বাংলাদেশি রোগীর আগমন আবার বেড়েছে।
নিউমার্কেটের শাড়ির দোকান কর্মী শ্যামল দত্ত বলেন, “গত বছর ব্যবসা খুব খারাপ ছিল। আগের মতো বাংলাদেশি ক্রেতা নেই। ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।”
ফুটপাথে জুয়েলারি ব্যবসায়ী শেখ জামির জানান, বাংলাদেশি ক্রেতা ছাড়া বিক্রি ৭০ শতাংশ কমেছে। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। শ্রী লেদার্স, খাদিমের মতো জুতার দোকানেও এখন শুধু স্থানীয় ক্রেতা থাকেন।
বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মারকুইস স্ট্রিটের হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কস্তুরি, ধানসিঁড়ি, প্রিন্সের মতো রেস্টুরেন্টে এখন বসার জায়গা খালি। রান্নার পরিমাণও অর্ধেক কমানো হয়েছে।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পেট্রাপোল দিয়ে এখন কয়েকশ’ যাত্রী প্রতিদিন আসছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বাড়েছে। তবে নিউমার্কেটের দোকানিরা এখনো আগের মতো লাভের মুখ দেখেননি। তাদের মতে, যতদিন পর্যটক ভিসা স্বাভাবিক হবে না, ততদিন নিউমার্কেটও স্বাভাবিক হবে না।