যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি খুব সহজেই ভেঙে পড়তে পারে, তাই প্রতিদিনই তারা দুই দেশের পরিস্থিতি মনিটর করছে। রুবিও জানান, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হয় যখন উভয় পক্ষই গুলি চালানো বন্ধ করতে রাজি হয়। তিনি উদাহরণ দেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা, যেখানে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চলেনি।

এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, “যুদ্ধবিরতি টেকসই রাখা কঠিন, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধে। আমাদের লক্ষ্য শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং এমন একটি শান্তিচুক্তি, যাতে এখন এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধ না হয়।”
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। রুবিও বলেন, “আমরা সৌভাগ্যবান যে আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্ট আছেন যিনি শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আমরা কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, রুয়ান্ডা, কঙ্গো এবং ভারত-পাকিস্তানে তার প্রভাব দেখেছি। শান্তি প্রতিষ্ঠার সব সুযোগ কাজে লাগানো হবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তান ‘দীর্ঘ রাতের’ আলোচনার পর মার্কিন মধ্যস্থতায় সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরপর থেকে তিনি প্রায় ৪০ বার এই দাবি করেছেন যে তিনি ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা কমিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ হলে আমেরিকা তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াবে।

তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে বলেছেন, কোনো দেশের নেতা ভারতকে ‘অপারেশন সিঁন্দুর’ থামাতে বলেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল না এবং ট্রাম্পের দাবি করা বাণিজ্য বিষয়ক সংযোগ সত্য নয়।
রুবিও আরও স্মরণ করান, “ভারত-পাকিস্তান যখন একে অপরের বি
মান ভূপাতিত করছিল, তখন তা হয়তো পরমাণু পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত। আমরা তখনই তা ঠেকাতে পেরেছি। মানুষের জীবন বাঁচানোই প্রথম, এবং যুদ্ধ রোধ করা সম্ভব।
 

Walton Ads