শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার বলেছেন, ইউক্রেনে পশ্চিমাদের কৌশলগত ব্যর্থতা, ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে ‘বোকামিপূর্ণ’ যুদ্ধে যোগদান এবং গাজার গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ—সবই ওয়াশিংটনের গভীর সংকটের প্রতিফলন।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলাস্কায় বৈঠক করেছেন। যদিও বৈঠকটি কোনো নির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্প ও পশ্চিমাদের কৌশল নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
মিয়ারশাইমার বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য ‘অস্তিত্বের লড়াই’। কিন্তু আমেরিকা ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবিবেচক।” তিনি আরও বলেন, “রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, আর পশ্চিমারা ইউক্রেনকে সময় দিচ্ছে পুনরায় সজ্জিত হওয়ার জন্য। এতে সংঘাত আরও দীর্ঘ ও ভয়াবহ হচ্ছে।”
বিশ্লেষকটি জানাচ্ছেন, ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে গেলে কিয়েভের জন্য এটি এক বড় ট্র্যাজেডি হবে। তার মতে, জেলেনস্কির জন্য বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ হবে পরাজয় মেনে নেওয়া।
ইরান প্রসঙ্গে মিয়ারশাইমার বলেন, “বাইডেন যদিও সরাসরি ইরানবিরোধী যুদ্ধে জড়াননি, যা ছিল বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। কিন্তু ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসংযত আচরণ করেছেন এবং আমেরিকাকে এতে জড়িয়ে ফেলেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন গভীর সংকটে রয়েছে। গাজার গণহত্যায় অংশগ্রহণ, কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড বহু মানুষকে হতাশ ও উদ্বিগ্ন করেছে।