গ্রেটার ইসরায়েল—শব্দটা শুনলেই চমকে ওঠেন অনেকেই। বাইবেলে বর্ণিত ‘ইহুদিদের জন্য প্রতিশ্রুত ভূমি’ নিয়েই আসলে এই ধারণার জন্ম। সেই ভিশন অনুযায়ী ইসরায়েল শুধু বর্তমান সীমান্তেই থামতে চায় না, বরং চারপাশের আরব দেশগুলোর জমিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়।
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি এই ধারণার সঙ্গে একমত। ফলে আরব দেশগুলো ক্ষোভে ফুঁসছে। কারণ, গ্রেটার ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হলে অস্তিত্ব হারাতে পারে কয়েকটি আরব দেশই।

চরমপন্থী ইসরায়েলিরা বরাবরই এই ধারণার কট্টর সমর্থক। তাদের মতে, ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডানের পুরোটা এবং সিরিয়া, ইরাক, মিসর ও সৌদি আরবের কিছু অংশ মিলিয়ে তৈরি হবে গ্রেটার ইসরায়েল।
তবে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করা ফিলিস্তিনি অঞ্চল, গোলান মালভূমি আর সিনাই উপদ্বীপকেও অনেকে গ্রেটার ইসরায়েলের অংশ মনে করেন।

এই ধারণার আধুনিক রূপকার থিওডর হার্জেল, রাজনৈতিক জায়নবাদের জনক। নিজের ডায়েরিতে তিনি লিখেছিলেন, “ইহুদি রাষ্ট্রের সীমানা মিসর থেকে ইউফ্রেতিস নদী পর্যন্ত হওয়া উচিত।” এই উক্তিই আসলে বাইবেলের বুক অব জেনেসিস থেকে নেয়া।

কেউ কেউ আবার মনে করেন, বুক অব ডিউটারোনমি ও বুক অব স্যামুয়েলেও একই রকম নির্দেশনা আছে—যেখানে ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানের অংশবিশেষকে ইহুদিদের জমি হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েলের স্পষ্ট কোনো স্থায়ী সীমান্ত নেই। কিন্তু ১৯৬৭ সালের যুদ্ধেই প্রথমবার শক্তি প্রয়োগ করে তারা সীমান্ত বাড়ানোর চেষ্টা করে। পরে অবশ্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সিনাই ফেরত দেওয়া হয়, তবে গোলান মালভূমি নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় ইসরায়েল।
এরপর থেকেই গ্রেটার ইসরায়েল ধারণা আরও জোরালো হয়। এমনকি ১৯৭০-এর দশকে “দ্য মুভমেন্ট ফর গ্রেটার ইসরায়েল” নামে রাজনৈতিক দলও গড়ে ওঠে। তাদের দাবি ছিল, দখল করা অঞ্চল আর ফেরত নয়—বরং সেখানে ইহুদি বসতি গড়ে তোলা।

অনেক ইসরায়েলির বিশ্বাস, গ্রেটার ইসরায়েল কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা নয়; বরং ঈশ্বরের দেওয়া নির্দেশ, যা বাস্তবায়ন করতেই হবে।
 

Walton Ads