গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক আল–জাজিরার ভেরিফিকেশন ইউনিট সানাদ জানিয়েছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের জোর করে দক্ষিণ গাজায় ঠেলে দেওয়া।
১৩ আগস্ট থেকে জেইতুনে বোমা বর্ষণ ও গোলাগুলি আরও বেড়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে—হামলার ভয়ে হাজারো ফিলিস্তিনি তাঁবু গুটিয়ে দক্ষিণে চলে যাচ্ছেন। শুধু ঘরবাড়ি নয়, আশ্রয়কেন্দ্রও ইসরায়েলের টার্গেটে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আশ্রয়কেন্দ্র ও বেসামরিক স্থাপনা নির্বিচারে ধ্বংস করা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে সরাসরি গণহত্যার শামিল বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বর্তমানে জেইতুনে রয়েছে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র। প্রতিটিতে প্রায় ৪ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছে। যুদ্ধের আগে ১০ বর্গকিলোমিটারের এই এলাকায় এখন মাত্র ৩ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটারে ঠাসাঠাসি করছে হাজারো ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ।
এরই মধ্যে ইসরায়েল জেইতুনের চারপাশে খুঁড়ে ফেলেছে পরিখা, বানিয়েছে কথিত ‘বাফার জোন’। পাশাপাশি নেটজারিম করিডরের মাধ্যমে গাজাকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বোমা হামলার ভয়ে মানুষকে দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়ার এ প্রক্রিয়াকে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি জাতিগত নিধন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে একাধিক হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আছে—আল–ফালাহ স্কুল, আল–লাবাবিদি সড়কের তাঁবুশিবির, নাসর পাড়ার মাজিদা আল–ওয়াসিলা স্কুল এবং শেখ আজলিন এলাকার তাঁবু।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র সবসময় সুরক্ষিত কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব স্থাপনায় ইসরায়েলের সরাসরি হামলাকে বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখছেন।