শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ঠিক এক বছর কেটে গেছে। এরই মধ্যে প্রায় ১,৩০০ আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বেশিরভাগই এখন ভারতের কলকাতার নিউ টাউনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে এই পালিয়ে থাকা নেতাদের জীবনযাত্রা, রাজনীতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী আরাফাতের প্রতিদিনের ব্যস্ততা
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ এ আরাফাত এখন কলকাতায় নির্বাসনে। তিনি প্রতিদিনই অনলাইনে বাংলাদেশে থাকা কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা করছেন। আরাফাত বলেছেন, “শেখ হাসিনার ফিরে আসা আর ইউনূস সরকারকে সরানো ছাড়া আমার জীবনের আর কোনো লক্ষ্য নেই।”

আসাদুজ্জামান খান কামালের সতর্ক জীবন
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে নিউ টাউনের ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি নিয়মিত দিল্লি যান এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন। ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি আরও সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন। তার বক্তব্য, “আমরা এখানে ঘুরতে আসিনি, বেঁচে থাকা আর ভবিষ্যতের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে এসেছি।”

নিউ টাউনে নতুন রুটিন
আওয়ামী লীগের পালিয়ে যাওয়া নেতাদের বেশিরভাগই নিউ টাউনের আধুনিক ফ্ল্যাটে থাকছেন। একজন সাবেক এমপি জানিয়েছেন, তাদের প্রতিদিনের দিনযাপন অনেকটা পাল্টে গেছে। ফজরের নামাজের পর শরীরচর্চা, দুপুরে বিশ্রাম আর বিকেল-সন্ধ্যায় অনলাইন বৈঠক—এভাবেই কেটে যাচ্ছে দিন। কেউ কেউ নিজেরাই রান্না করছেন, আবার ভিডিও কলে স্ত্রী থেকে রেসিপি শিখে নিচ্ছেন।
প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রায় ৩০ হাজার রুপি হলেও তারা মনে করছেন, নিরাপত্তা ও সুবিধার কারণে নিউ টাউনই তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা।

গোপন কার্যালয়ের গুঞ্জন
বাংলাদেশি গণমাধ্যমে খবর এসেছে, কলকাতায় নাকি আ.লীগের একটি গোপন অফিস আছে। তবে একজন সাবেক এমপি বলেছেন, “এটা অফিস নয়, শুধু বৈঠকের জায়গা। প্রায় ১,৩০০ নেতা এখানে একসঙ্গে মিটিং করেন।”

বিদেশে অন্যদের জীবন
সাবেক কূটনীতিক হারুন আল রশিদ কানাডার অটোয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। নির্বাসিত জীবনে তিনি লেখালেখি বেছে নিয়েছেন এবং The Mapmaker’s Prayers নামে একটি উপন্যাস লিখছেন, যেখানে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে, এক তরুণ সাবেক এমপি ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনে কখনো সময় পাননি নিজের দিকে নজর দিতে। কলকাতায় এসে তিনি দিল্লিতে গিয়ে চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছেন। মজা করে তিনি বলেছেন, “এমন কঠিন সময়ে নতুন চুল অন্তত আমাকে মানসিকভাবে একটু আনন্দ দিয়েছে।”
সব মিলিয়ে নিউ টাউনে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের জীবন এখন ভিন্ন এক ছন্দে চলছে। কেউ দিন কাটাচ্ছেন রাজনীতিতে, কেউ লেখালেখিতে, কেউবা ব্যক্তিগত পরিবর্তনে। তবে সবার চোখই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ রাজনীতির ক্ষমতার দিকে।
 

Walton Ads