গাজা শহর দখলের ইসরাইলি অভিযান ব্যর্থ হবে—এমনই জোরালো দাবি করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। বুধবার ২০ আগস্ট এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ইসরাইলের নতুন করে শুরু করা এ পরিকল্পনা আগের ব্যর্থ প্রচেষ্টার মতোই ভেস্তে যাবে।
এর আগে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ অপারেশন ‘গিডিয়ন’স চ্যারিওটস ২’ নামে একটি সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য গাজা শহর দখল করা। তবে হামাস বলছে, ইসরাইল কখনোই তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না, বরং গাজায় দখল মানে হবে আরও ভয়াবহ প্রতিরোধ।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই অভিযান কেবল ব্যর্থই হবে না, বরং যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি করতে কাজ করা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টারও অপমান।”
হামাস অভিযোগ করেছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইসরাইল এখনো গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করছেন, বন্দিদের জীবনকে তুচ্ছ করছেন এবং চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো আন্তরিকতাই দেখাচ্ছেন না।
হামাস আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধে ইসরাইলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। বৈঠকের আগে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য হচ্ছে পুরো গাজা উপত্যকা দখল করা। এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার গাজা শহরের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোর করে দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে শহরকে অবরুদ্ধ করা হবে এবং শেষ ধাপে দখল করা হবে।