রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও শান্তি আলোচনা চলছে ইস্তাম্বুলে। কিন্তু এরই মধ্যে রুশ সেনারা ইউক্রেনের আরও তিনটি গ্রাম দখল করেছে। বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দখল হওয়া গ্রামগুলো হলো—সুখেৎস্কি ও প্যানকিভকা বা দোনেৎস্ক প্রদেশে এবং নোভোগিওরগিভকা বা দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক প্রদেশে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতিরোধ ভেঙেই তারা গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

২০১২ সালে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটো ইস্যুকে কেন্দ্র করেই ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর মাত্র আট মাসের মধ্যেই দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসনের বড় অংশ দখল করে নেয় মস্কো এবং সেগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা করে।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়, গত জুলাইয়ে তারা প্রথমবারের মতো দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে প্রবেশ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি গ্রাম দখল করে নেয়। এবার আরও অগ্রসর হয়ে নতুন গ্রামগুলোর দখল নিলো।

এদিকে ইস্তাম্বুলে চলমান শান্তি সংলাপে উভয় পক্ষই হাজার হাজার সেনার মরদেহ ও যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধের অবসানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ এবং সরাসরি বৈঠক করেছেন।

তবে এর মাঝেই ইউক্রেনের নতুন গ্রাম দখলের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি আলোচনা চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় স্থায়ী সমাধান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
 

Walton Ads