ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার বক্তব্য, যদি সত্যিই অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়, তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ফেরত পাঠানো উচিত, যিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধছে দেশজুড়ে।
ভারতের রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন হায়দরাবাদের এই প্রভাবশালী এমপি ও এআইএমআইএম প্রধান।
তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“যদি সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায়, তবে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে কেন নয়? তিনিও তো বাংলাদেশি, তাহলে তাকে দেশে পাঠানো হবে না কেন?”
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে বসবাস করছেন। অথচ সীমান্তের সাধারণ মানুষদের শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশি বলে অভিযুক্ত করে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
ওয়েইসির অভিযোগ, “ভারতে যেই বাংলা ভাষায় কথা বলবে, তাকেই বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। এটা আসলে বিদেশাতঙ্ক।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কীভাবে সাধারণ মানুষকে আটক শিবিরে রাখছে। তার মতে, এখন সবাই স্বঘোষিত আইনরক্ষকে পরিণত হয়েছে। বিহারে চলমান ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও সতর্ক করেন ওয়েইসি। তার দাবি, এতে বিশেষ করে মুসলমান ভোটাররা বাদ পড়ার আশঙ্কায় আছেন।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা আছে—তিনবার গিয়ে কাউকে না পাওয়া গেলে বা সন্দেহ হলে কর্মকর্তারা নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। ওয়েইসির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম ভোটাররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের নীরবতারও সমালোচনা করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, “এ রাজনীতি নতুন নয়, তবে ২০১৪ সালের পর থেকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল এখন সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মোদি সরকারকে skathor সমালোচনা করেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ নিহত হলেও ভারত নীরব বলে অভিযোগ করেন ওয়েইসি। তার ভাষায়, “৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ হাজার শিশু। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি শব্দও বলেননি। নীরব থেকে আসলে নেতানিয়াহুর গণহত্যাকে সমর্থন করছেন।”
এমন স্পষ্টভাষী মন্তব্যে ওয়েইসিকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।