দক্ষিণ গাজায় হামাসের সেনাশিবিরে হামলার পর ইসরায়েল আরও কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে। আহত হয়েছেন তিন ইসরায়েলি সেনা, মারা গেছেন ১০ হামাস যোদ্ধা। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে সরা হয়নি। পাশাপাশি ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ৩,৪০০টি নতুন বসতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেনা মোতায়েনও বাড়ানো হচ্ছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাশিবিরে হামলা চালিয়েছে প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতাপ্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। বুধবার এই হামলা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। ঘটনায় তিনজন ইজরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিহত করার সময় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন হামাস যোদ্ধা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হামাসের সশস্ত্র যোদ্ধারা একটি সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে সেনাশিবিরের দিকে এগোতে থাকেন। তাদের হাতে মেশিনগান ও আরপিজি ছিল। তবে কাফির ব্রিগেডের নাহশোন ব্যাটালিয়নের সেনারা বড়সড় হামলাটি প্রতিহত করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অন্তত ১৮ জন হামাস সদস্য হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১০ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বাকিরা হয়তো পালিয়ে গেছেন। ইসরায়েলের দাবি, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সেনাদের অপহরণ।
আইডিএফ-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন নিশ্চিত করেছেন হামলার খবর। হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেড এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, গোলাগুলির পাশাপাশি আত্মঘাতী বোমা হামলাও চালানো হয়েছে, যা কিছু ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু ডেকে এনেছে। তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সমালোচনা উপেক্ষা করে বুধবারই ইসরায়েল গাজার অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। কেন্দ্রস্থলে ৩,৪০০টি আবাসন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ঘোষণা করেছেন, শীঘ্রই প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের ধারণা মুছে ফেলা হবে।
জেরুসালেমের পূর্বে ‘ই-১’ নামে বসতি প্রকল্প বহু বছর আটকে ছিল। বুধবার সেখানে সিলমোহর মেলার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে তারা সরেনি। শহরের প্রান্তে আরও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইডিএফ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৫০,০০০ সেনাকে মোতায়েন করা হবে।