ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের রিলায়েন্স রাশিয়ান তেলের মাত্র ৩% আমদানি করলেও, এখন তা বেড়ে ৫০% পৌঁছেছে। এর ফলে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী মুকেশ আম্বানি আরও সমৃদ্ধ হয়েছেন। মার্কিন শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জামনগর শোধনাগার থেকে রাশিয়ান তেলের রপ্তানি ও আমদানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদন
ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (RIL) রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি করত। কিন্তু ২০২৫ সালে তা গড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। জামনগর রিফাইনারির এই বৃদ্ধি রাশিয়ার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের মধ্যেও ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন, কারণ তিনি মনে করেন ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি ইউক্রেন যুদ্ধকে ইন্ধন যোগাচ্ছে। তবে ভারতের পুরনো কৌশলগত সম্পর্ক মস্কো এবং নয়াদিল্লির মধ্যেও রাশিয়ান তেল এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
CREA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে জামনগর শোধনাগার ১৮.৩ মিলিয়ন টন রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্য প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলার। শোধনাগার থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার মূল্যসীমা এবং এর কার্যকারিতা ভারত ও চীনের জন্য এই তেলকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ান তেলের ব্যবহার ভারতীয় বাজারে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে।
RIL-এর বাইরে নায়ারা এনার্জি এবং রোসনেফ্ট-এর মতো সংস্থাগুলিও রাশিয়ান তেলের বড় আমদানিকারক। জামনগর শোধনাগার থেকে প্রায় অর্ধেক জেট জ্বালানি, মিশ্রণ উপাদান এবং পেট্রোল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের রিলায়েন্স এই আমদানির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে তেল পেয়ে লাভবান হচ্ছে। মার্কিন শুল্ক ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরেও রাশিয়ান তেল বাজারে রিলায়েন্সের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল থেকে প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি ও আমদানির ফলে মুকেশ আম্বানির ধনীর অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।