জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা আইপিসি গাজা সিটি এবং আশপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়েছে। গাজার মানুষ এখন চরম অনাহার ও খাদ্যের অভাবে ভুগছেন। দেইর এল-বালাহ ও খান ইউনুসেও পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে গাজার জনসংখ্যার ৫৪% জরুরি খাদ্য সংকটে রয়েছে, আর প্রায় ৬ লাখ মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারেন।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) জাতিসংঘের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা আইপিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, গাজা সিটি এবং আশপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজার মানুষ এখন চরম অনাহার ও দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গাজা সিটিকে খাদ্য সংকটের সর্বোচ্চ ধাপ বা ‘পঞ্চম ধাপে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মানে, স্থানীয় মানুষ খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছুই পাচ্ছেন না।

দেইর এল-বালাহ ও খান ইউনুসেও খাদ্য পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আইপিসি সতর্ক করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই দুটি শহরেও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় গাজার প্রায় ৬ লাখ ৪১ হাজার মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বেন।

বর্তমানে গাজার মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ বা প্রায় ১০ লাখ মানুষ জরুরি খাদ্য সংকটে রয়েছে (‘ধাপ-৪’), যারা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ (‘ধাপ-৩’) মারাত্মক খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার ১৯ লাখ মানুষ বা জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ পরিবার জনাকীর্ণ ও অনিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন করছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছেন।

গাজার খাদ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ৯৮ শতাংশ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত, গবাদি পশুর সংখ্যা কমে গেছে, মাছ ধরা নিষিদ্ধ, নগদ অর্থের অভাব দেখা দিয়েছে এবং বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করে এবং পরবর্তীতে খাদ্য সরবরাহে অবরোধ আরোপ করে। মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে গাজার মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু ইসরায়েল গাজা সিটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছে।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষণা করা হলো।

 

Walton Ads