অসাধ্যকে সাধন করতে অভ্যস্ত ইরান থেমে থাকছে না কোনো বাধায়। এবার তারা মহাকাশে নিজস্ব ডানা মেলতে যাচ্ছে। দেশের মহাকাশ সংস্থা ঘোষণা করেছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই তারা উৎক্ষেপণ করবে নিজেদের প্রথম ন্যারো ব্যান্ড স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনের প্রোটোটাইপ, যার নামকরণ করা হয়েছে শহীদ সোলাইমানী।
সম্প্রতি রাশিয়ার সইউজ লঞ্চারের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট নাহিদ-টু মহাকাশে পাঠিয়েছে ইরান। তবে এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশাল পরিকল্পনার যাত্রা, যেখানে মোট ২০টি স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করবে ইরান। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য স্থির করেছে তেহরান। এটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, কৌশলগতভাবেও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখাচ্ছে।
ইরানের মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সোলাইমানী প্রকল্প হবে দেশের প্রথম ন্যারো ব্যান্ড স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। এই সিস্টেমটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং রিমোট সেন্সিং-এর জন্য। প্রায় ২০টি স্যাটেলাইট ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে স্থাপন করে পুরো দেশের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ন্যারো ব্যান্ড যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়া জানিয়েছেন, প্রকল্পটির নকশা পর্ব শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এবং বর্তমানে বেশিরভাগ সাব-সিস্টেম নির্মাণাধীন। এটি বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বয়ে একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেছেন, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে, তবে এটিকে মহাকাশ শিল্পে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই দেখছেন।
সালারিয়া আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের প্রথম দেশীয় স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন দ্রুতই মহাকাশে প্রবেশ করবে এবং দেশের বৃহত্তর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের ভিত্তি স্থাপন করবে।
এই উদ্যোগ কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায়ও নতুন মাত্রা যোগ করবে। দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার শিকার হলেও ইরান প্রমাণ করছে, উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। এক সময় মহাকাশ ছিল শুধু মহাশক্তিদের দখল, আর এখন ইরান দেখাচ্ছে সাহস থাকলে পথও তৈরি হয়।